বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের তিনটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইনজীবীরা। বুধবার (০৪ মার্চ) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি—এমন অভিযোগে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের দাবি, আলোচনার পর ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন আরও খারাপ আচরণ শুরু করেছেন। তাই আইনজীবীরা কোনোভাবেই তার এজলাসে অংশ নেবেন না।
বুধবার থেকেই তার আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইরিন পারভীনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) আদালতও একই সঙ্গে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সভায় পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালতও বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম. এ. গফুর। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি এম. ইদ্রিস আলী, শরীফ নুর মোহাম্মদ আলী রেজা, কাজী ফরিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম বাচ্চু, সিনিয়র আইনজীবী জাফর সাদিক, মঈনুল হক খান ময়না এবং সাবেক জিপি সোহেল শামীম।
সভায় বক্তারা দাবি করেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের ওপর তাদের ক্ষোভ নেই। তবে তিনি আইন-কানুন জানেন না এবং জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অযোগ্য। তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ করছেন—এমন অভিযোগ তোলা হয়।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের সঙ্গে সমিতির পক্ষ থেকে বৈঠক করা হয়েছিল। তিনি সমঝোতার কথা দিলেও পরে আরও খারাপ আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। শেষ পর্যন্ত বুধবার দুপুরে জরুরি সভা করে সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, যশোরের সিনিয়র আইনজীবীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারক না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন একাধিক বিচারক, যার ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন