আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন নেপালের নাগরিকরা। দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ প্রার্থী, যা দেশটির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ছয় মাস আগে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জেন-জি আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন মার্কসবাদী সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়া র্যাপার ও বালেন শাহ। বালেন শাহ আগে কাঠমান্ডু মহানগরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভোট দেওয়ার পর কাঠমান্ডুর একটি কলেজ কেন্দ্রে অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিলান্তা শাক্য (৬০) বলেন, নেপালের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্যবস্থা থেকে আরেক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ Nepal-এ ২০০৬ সালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এবারের নির্বাচনকে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য।
এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীদের উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয়। তারা দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন। এতে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসা প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে তাদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। তবে প্রবীণ নেতারা বলছেন, দেশকে স্থিতিশীল রাখতে তাদের অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
রাজধানীর বাইরে ভাকতপুর জেলায় ভোট দেওয়ার পর গৃহিণী নির্মলা ভান্ডারি বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তায় নেচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও ধারণ করেন। তিনি বলেন, “আজ যেন উৎসবের দিন মনে হচ্ছে। আশা করছি দেশ নতুন নেতৃত্ব পাবে এবং আমরা একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়তে পারব।”
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন-জি আন্দোলনের সময় সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। পার্লামেন্টসহ বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে দুর্নীতি ও সরকারবিরোধী বৃহৎ বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের পথ তৈরি করে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি