রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে মানসিক চাপ, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই রাতে সহজে ঘুমাতে পারেন না। আলো নিভিয়ে ফোন দূরে রাখলেও অনেক সময় ঘুম আসতে চায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন খাবারের তালিকাও ঘুমের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। সঠিক কিছু খাবার নিয়মিত খেলে তা শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে এবং ধীরে ধীরে ঘুমের মান উন্নত করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন চারটি খাবার সম্পর্কে
১. বাদাম: পেশী শিথিলকরণ ও গভীর ঘুমের জন্য
বাদাম ম্যাগনেসিয়ামের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা সন্ধ্যায় ৫ থেকে ৭টি আগে থেকে ভেজানো ও খোসা ছাড়ানো বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি রাতের ঘন ঘন জেগে ওঠা কমাতে সাহায্য করে, মনকে শান্ত করে এবং পেশীকে শিথিল করে। এছাড়া ঘুমানোর আগে বাদামের দুধও একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
২. কলা: মেলাটোনিন বৃদ্ধিতে সহায়ক
কলা পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ট্রিপটোফ্যানের ভালো উৎস, যা ভালো ঘুমে সহায়তা করে। পটাসিয়াম রাতের ক্র্যাম্প কমাতে সাহায্য করে এবং ম্যাগনেসিয়াম মেলাটোনিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে, যা ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। দুপুরের খাবারের পরে বা রাতের খাবারের পরে একটি কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. হলুদ ও জায়ফল মিশ্রিত গরম দুধ
গরম দুধ দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের আগে আরামদায়ক পানীয় হিসেবে পরিচিত। দুধ শরীরকে স্বাভাবিকভাবেই শান্ত করে। এতে হলুদ মেশালে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, আর এক চিমটি জায়ফল দুর্বল বা ব্যাহত ঘুমের ক্ষেত্রে উপকারী বলে মনে করা হয়। রাতে দুধের সঙ্গে হলুদ ও সামান্য জায়ফল ফুটিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।
৪. চেরি: মেলাটোনিনের প্রাকৃতিক উৎস
চেরি ঘুম সহায়ক একটি ফল হিসেবে পরিচিত। এতে প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিন থাকে, যা শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ধ্যায় এক বাটি তাজা চেরি খেলে রাতে স্বাভাবিকভাবেই ঘুম আসতে পারে।
নিয়মিত এই খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় যোগ করলে ধীরে ধীরে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে এবং শরীর-মন আরও সতেজ থাকতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম