আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : নেপালে আজ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (HoR) বা প্রতিনিধি সভার নির্বাচন দেশজুড়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে পূর্বনির্ধারিত সময় বিকেল ৫টায় শেষ হয়।
নির্বাচন কমিশনার ডক্টর জানকী কুমারী তুলাধর জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের পরেও যারা ভোটকেন্দ্রের লাইনে উপস্থিত ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যদিও দোলাখা, সারলাহি এবং রাউতাহাটে কিছু ছোটখাটো বিবাদের খবর পাওয়া গেছে, তবে কোনো ভোটকেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করার প্রয়োজন হয়নি। দোলাখার তামকোশি-৪ এলাকার মালু ভোটকেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে তা পুনরায় শুরু হয়।
এবারের নির্বাচনে ১৬৫টি প্রত্যক্ষ (FPTP) এবং ১১০টি সমানুপাতিক (PR) আসনের জন্য মোট ১,৮৯,০৩,৬৮৯ জন ভোটার তালিকাভুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে ১,৮৬,১৪২ জন অস্থায়ী ভোটারও অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যক্ষ ব্যবস্থার অধীনে ৬৫টি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ৩,০১৭ জন পুরুষ, ৩৮৮ জন মহিলা এবং একজন অন্য লিঙ্গের প্রার্থীসহ মোট ৩,৪০৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অন্যদিকে, সমানুপাতিক পদ্ধতির অধীনে ১,৩৬৩ জন পুরুষ এবং ১,৭৭২ জন মহিলাসহ মোট ৩,১৩৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিল হন। ভোটগ্রহণের জন্য সারা দেশে ১০,৯৬৭টি স্থানে মোট ২৩,১১২টি স্থায়ী এবং ১৪৩টি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল।
বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, জাতীয় তদন্ত বিভাগ এবং বিশেষ নির্বাচনী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কাঠমান্ডু জেলায় ভোট গণনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কাঠমান্ডুতে ভোটার উপস্থিতির হার প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ। মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা চুরামন খড়কা জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কার্যালয়ে ব্যালট বাক্স সংগ্রহের কাজ শেষ হলেই দ্রুত গণনা প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি