আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের টর্পেডো হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে “পস্তাতে হবে”।
বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ভারত মহাসাগরে ইরানের ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনাতে মার্কিন একটি সাবমেরিন টর্পেডো হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলার পর এখন পর্যন্ত ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও প্রায় ৬০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
উদ্ধার অভিযান শুরু করে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী। জীবিত উদ্ধার হওয়া নাবিকদের শ্রীলঙ্কার বন্দর শহর গালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, “ইরানের উপকূল থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনও সতর্কবার্তা ছাড়াই একটি নৃশংস হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাহাজটিতে তখন প্রায় ১৩০ জন নাবিক ছিলেন।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধজাহাজটি তখন ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘অতিথি’ হিসেবে সফরে ছিল।
সম্প্রতি ভারতের বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল ডেনা। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, মহড়ায় অংশ নেওয়ার পর জাহাজটি ভারতীয় জলসীমা ত্যাগ করায় তখন আর সেটিকে ভারতের ‘অতিথি’ বলা যায় না।
হামলার বিষয়ে পরে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানায়, তাদের একটি সাবমেরিন আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে।
এদিকে ঘটনাটির পর উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির মন্ত্রিসভার মুখপাত্র নালিন্দা জয়তিসা জানিয়েছেন, তাদের জলসীমার কাছাকাছি আরেকটি ইরানি জাহাজ রয়েছে এবং সেটিকে নিরাপত্তা দিতে চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
এই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি