রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর খুচরা বাজারে কিছু নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমেছে, তবে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। মিরপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবু ও শসার দাম সামান্য কমেছে, বিপরীতে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি এবং বিভিন্ন মসলার দাম বেড়েছে।
ব্রয়লার মুরগির দাম বর্তমানে প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা, সোনালি মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা। বছরের শুরুতে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। মাঝখানে দাম বেড়ে ২০০ থেকে ২৩০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।
মিরপুরের এক মুরগি বিক্রেতা হাসান বলেন, রোজায় মুরগির দাম ওঠানামা করছে। রোজার শুরুতেও দাম এমনই ছিল, পরে কিছুটা কমেছিল। আমরা পাইকারি বাজার থেকে মুরগি কিনি। বর্তমানে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। অন্য একজন বিক্রেতা বলেন, ঈদের আগে মুরগির দাম আরও এক দফা বাড়তে পারে, কারণ অনেকেই এখন থেকেই মাছ-মাংস কেনা শুরু করেছেন।
সবজির বাজারে সামান্য স্বস্তি রয়েছে। মাছ, সবজি ও গরুর মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর দামও সামান্য কমেছে। রোজার প্রথম সপ্তাহে লেবু ও শসার দাম ছিল বেশ চড়া। ইফতারে শরবত তৈরিতে লেবুর চাহিদা বেশি হওয়ায় এবং সালাদের প্রধান উপকরণ হওয়ায় শসার চাহিদাও বেড়ে যায়। সে সময় প্রতি হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। চলতি সপ্তাহে লেবুর দাম কমে ৪০ থেকে ৭০ টাকায়, শসার দাম কমে ৫-১০ টাকা হলেও বাজারে এখনও চাহিদা তুলনায় বেশি।
মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মাসুদ করিম বলেন, রোজার শুরুতে লেবু, শসা ও পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছিল। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনে রাখায় এখন চাহিদা কমে দামও কিছুটা কমেছে। মিরপুর-১১ নম্বর কাঁচাবাজারের বিক্রেতা শফিকুল উদ্দিন বলেন, বেশিরভাগ সবজি আগের দামে বিক্রি হচ্ছে, তবে বেগুনের দাম কিছুটা কমেছে।
বাজারে মসলার দামও তুমুল বেড়েছে। কেজিপ্রতি আলুবোখারার দাম ২০০ টাকা বেড়ে প্রায় ১ হাজার টাকায়, জিরা, কিসমিস ও বিভিন্ন ধরনের বাদামের দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চিনি ও সুগন্ধি চালের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেশ কয়েক দিন ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, এক লিটার ও দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতাদের দাবি, ডিলাররা চাহিদার তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল সরবরাহ করছেন। মিরপুরের এক বিক্রেতা মনোয়ার বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরে দাম বাড়ানো হতে পারে। না হলে যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে তেলের দাম বাড়ানো হতে পারে।
মিরপুরের বিক্রেতারা বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারকে শুরু থেকেই কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম