রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পাঠানো সামরিক সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর আর কোনো প্রয়োজন নেই। শনিবার (৭ মার্চ) এই মন্তব্যটি করেন তিনি।
ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের প্রধান দুটি রণতরির একটি ‘এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস’ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে ‘একসময়ের মহান মিত্র’ হিসেবে অভিহিত করে লিখেছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যারা যোগ দিতে আসে, তাদের এখন আর দরকার নেই। এই মন্তব্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুনভাবে টানাপোড়েনের মুখে ফেলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইরানে আনুমানিক ১,৩৩২ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৬ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধ নিয়ে আইনি প্রশ্ন থাকলেও ব্রিটিশ সরকার তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই বিশাল ব্যবধানে জয়ী হচ্ছে এবং ইরানের ‘দুষ্ট সাম্রাজ্য’ ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি, তবে হতাহতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে মার্কিন সেনার প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে। ট্রাম্পের ধারণা, এই যুদ্ধ আরও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে এ সামরিক অভিযান তাঁর ‘মাগা’ সমর্থকদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি করেছে, কারণ নির্বাচনের সময় তিনি ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে