আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করলেও, দেশটির শক্তিশালী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) তার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেনি। গালফ অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরান আক্রমণ চালাচ্ছে, কিন্তু লিডারদের বিবৃতি ভিন্নমতপূর্ণ।
পেজেশকিয়ান শনিবার বলেছিলেন, যদি আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ না হয়, তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর হামলা থামানো হবে। আমাদের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা। তিনি যোগ করেন, আমরা আমাদের অঞ্চলের ভাইদের পাশে দাঁড়াই।
এরপরই আইআরজিসি জানায়, আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানাই, তবে যদি শত্রু আগ্রাসন চালায়, আমাদের প্রতিক্রিয়া হবে। মার্কিন এবং জায়নিস্ট অবৈধ শক্তির সব সামরিক স্থাপনাকে আমরা লক্ষ্যবস্তু করি।
প্রেসিডেন্ট পরে এক্স-এ (X) স্পষ্ট করেন, ইরান কোনো প্রতিবেশী দেশকে আক্রমণ করেনি, বরং “মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সুবিধা ও ইনস্টলেশন লক্ষ্য করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যখন শত্রু আমাদের আক্রমণ করবে, আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাব এবং দেখাতে থাকব।
রবিবার পেজেশকিয়ান বলেন, তার বক্তব্য ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে শত্রুদের দ্বারা, যারা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই, কিন্তু আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় শক্তিশালী অবস্থান নেয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে, আমাদের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমকে কোনোভাবেই প্রতিবেশী দেশগুলোর শত্রুতা হিসেবে দেখা যাবে না।
বিশ্লেষক খালিদ আল-জাবের মনে করেন, বিভিন্ন ইরানি কর্মকর্তার বার্তা পরস্পরবিরোধী। বর্তমানে গালফের অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি