আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ১০তম দিনে ইরান ক্রমশ নতুন “যুদ্ধপর্বে” প্রবেশ করছে। মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণার পর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি কেন্দ্র, বিশেষত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস, তাকে সমর্থন জানিয়েছে। ওয়াশিংটন এ নিয়োগকে “অগ্রহণযোগ্য” হিসেবে দেখেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মোজতবার নেতৃত্বে তার পিতার কঠোর নীতি অব্যাহত থাকবে।
অর্থনৈতিক প্রভাব:যুদ্ধের কারণে তেল দর ১০০ ডলারের ওপরে চলে গেছে, যা রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এশীয় বাজারে পতন এবং তেল ফিউচারে উত্থান দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান জোর দিয়েছেন, নীতি নির্ধারকদের “অচিন্তনীয়” পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে। দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জ্বালানি সীমা আরোপ করবে।
আঞ্চলিক হামলা:ইসরায়েল বৈরুত এবং ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। তেহরানও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো যেমন বাহরাইন জানিয়েছে, একটি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। বাহরাইনের জাতীয় তেল কোম্পানি বাপকোর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নাগরিক ও শিক্ষা:ইরানে নতুন নেতা মোজতবার প্রতি আনুগত্যের জন্য জাতীয় সমাবেশ ঘোষণা করা হয়েছে। তেহরানের বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন; কেউ কেউ শহর ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ভাবছেন। পাশাপাশি, ইরানী নারী ফুটবল দলের প্রতি নিরাপত্তা হুমকি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ায় আসন্ন এশীয় নারী কাপ থেকে ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে।
মার্কিন অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রশাসন জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেছে, এটি স্বল্পকালীন বাধা। সিনেটের নেতা চক শুমার এ সময়ে মার্কিন কৌশলগত তেল সংরক্ষণ থেকে তেল সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ শেষের সময় নির্ধারণ এবং ইরানের “শর্ত নির্ধারণ” মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতৃত্বের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এ ছাড়াও
মোজতবা খামেনি নির্বাচিত, ইরানের শক্তি কেন্দ্র সমর্থন জানাল।
তেল ও জ্বালানি বাজার অস্থির; তেল ১০০ ডলারের ওপরে।
ইসরায়েল ও ইরানের হামলা চলছেই; উপসাগরীয় দেশগুলোতেও প্রভাব।
নাগরিক ও ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা হুমকিতে।
মার্কিন নেতৃত্ব কূটনৈতিক ও তেল নীতিতে নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করছে।
এই খবরের প্রেক্ষিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন মোজতবা খামেনির পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর কেন্দ্রীভূত।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি