আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ।
সোমবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব ইতোমধ্যে দুটি তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমানো শুরু করেছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বাপকো এনার্জি তাদের রিফাইনারি কমপ্লেক্সে হামলার পর ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে, যা সাধারণত বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে ইরাকের প্রধান দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমিয়ে দিনে ১৩ লাখ ব্যারেলে নামানো হয়েছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও শনিবার থেকে উৎপাদন কমানোর পাশাপাশি একই ধরনের জরুরি ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের উল্লম্ফনে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৩ দশমিক ৯৩ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৩১ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকদের উৎপাদন কমানো এবং পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্তমানে উপসাগরের ভেতরে এবং হরমুজ প্রণালির মুখে শত শত তেলবাহী ট্যাংকার আটকে আছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রুপ অফ সেভেন বা জি–৭ দেশের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে জরুরি তেল মজুত ছাড়ার বিষয়টি আলোচনা হতে পারে বলে ফ্রান্স সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তবে সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চক শুমার কৌশলগত তেল মজুত থেকে বাজারে তেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। জাপান সম্ভাব্য তেল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো জ্বালানির মূল্যসীমা নির্ধারণ করেছে, ভিয়েতনাম জ্বালানি আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করেছে এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ কাতারও গ্যাস রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দ্রুত শেষ না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি