রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে গত ১০ দিনে পাঁচ হাজারেরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
সেন্টকোমের দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইরানের ৫০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান। এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা, সামরিক যোগাযোগ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সামরিক কমান্ডকেন্দ্রও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলে। তবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে সংলাপটি শেষ হয়।
এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান চালু করে।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই বড় ধাক্কা খায় ইরান। হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং বেশ কয়েকটি তেল ডিপোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এএফপি
রিপোর্টার্স২৪/আরকে