আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে অঞ্চল থেকে “এক লিটার তেলও” রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে তেল পরিবহন বন্ধ করার চেষ্টা করে তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর হামলা চালাবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুবাই, কায়রো ও ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালিয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো তেল রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
এই উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তিশালী হামলা চালাবে যে তারা আর কখনও সেই অঞ্চলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি বলেন,যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে বিশ গুণ কঠোর আঘাত হানবে।
যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে: ট্রাম্প
সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তার ধারণা যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হতে পারে। যদিও তিনি এখনো স্পষ্ট করেননি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই যুদ্ধে ‘বিজয়’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, তাদের লক্ষ্য হলো ইরানের ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা। আর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতে চায়। তবে ট্রাম্পের মতে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুগত সরকার গঠিত হলেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।
ইরানের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূতের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন বেসামরিক ইরানি নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছে।
যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করবে ইরান
আইআরজিসি মুখপাত্র ট্রাম্পের বক্তব্যকে “অর্থহীন” বলে উল্লেখ করে বলেন,এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা আমরাই নির্ধারণ করব।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।তিনি বলেন,তিন দফা আলোচনার পর মার্কিন প্রতিনিধিরাই বলেছিল উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তারপরও তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাই আমেরিকার সঙ্গে আবার আলোচনার বিষয়টি এখন আমাদের এজেন্ডায় নেই।
তেলের বাজারে অস্থিরতা
যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ থাকায় উৎপাদকদের অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন কমাতে হয়েছে।
সোমবার তেলের দাম ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে মঙ্গলবার দাম আবার ১০ শতাংশের বেশি কমে যায়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও কিছুটা পুনরুদ্ধার দেখা গেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, তেলের সংকট কমাতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু দেশের ওপর আরোপিত তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে।
তেল শোধনাগারে হামলা, তেহরানে ধোঁয়া
ইরানের একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর রাজধানী তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। এতে খাদ্য, পানি ও বাতাস দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস, যিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মহাপরিচালক।
অন্যদিকে তুরস্ক জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়লে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ভূপাতিত করে।
এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে এবং লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও আঘাত হেনেছে। কারণ ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সীমান্ত থেকে রকেট নিক্ষেপ করছিল।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি