আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফোনালাপে ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় রাশিয়ার ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে চলতি বছরে প্রথমবারের মতো টেলিফোনে কথা হয়। এতে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাধান, ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক তেলবাজারের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ক্রেমলিন জানায়, ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ করার বিষয়ে রাশিয়ার কিছু প্রস্তাব নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন,প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আমার খুব ভালো কথা হয়েছে। তিনি ইরান ইস্যুতে সহায়তা করতে চান। তবে আমি তাকে বলেছি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দ্রুত শেষ করাই আরও বেশি সহায়ক হবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সতর্কতা
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই পুতিন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়, যা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর দেখা দেওয়া অস্থিরতার পর সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন। কারণ গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদকরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। পুতিন বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল তেল উৎপাদন যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক এবং সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের দেশ হিসেবে রাশিয়া চাইলে আবারও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতায় ফিরতে প্রস্তুত।
রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ভাবনা
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে ঘোষণাও শিগগিরই আসতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে তেলের জোগান বাড়ানোর জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এতে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখার যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়তে পারে।
সূত্রগুলো জানায়, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আওতায় কিছু নির্দিষ্ট দেশ যেমন ভারতকে মার্কিন শাস্তির আশঙ্কা ছাড়াই রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সমুদ্রে থাকা ট্যাংকার থেকে অস্থায়ীভাবে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার অনুমতি দেয় ভারতকে, যাতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দিতে পারে দেশটি।
ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষের আশা
ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের আলোচনা ছিল “খুবই গুরুত্বপূর্ণ” এবং এটি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।তার মতে, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই ইউক্রেন সংঘাত দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মাধ্যমে শেষ হওয়া উচিত। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি