আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগেই মহাকাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির বিস্তারিত ছবি প্রকাশ পায়। চীনের একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট কোম্পানি এই নজরদারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও সামরিক সরঞ্জামের অবস্থান শনাক্ত করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের ভূ-তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান মিজারভিশন (MizarVision) উচ্চমানের স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান ও জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করে। এসব ছবিতে বিমানঘাঁটিতে পার্ক করা যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান এবং বিমানবাহী জাহাজের ডেকে থাকা ফাইটার জেট পর্যন্ত দেখা যায়।
চীনা স্যাটেলাইটের তোলা একটি ছবিতে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে বহু মার্কিন বিমান প্রস্তুত অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে অন্তত ডজনখানেক যুদ্ধ ও সহায়ক বিমান শনাক্ত করা হয়েছিল। ছবিগুলোতে প্রতিটি বিমানের ধরন ও অবস্থান পর্যন্ত চিহ্নিত ছিল, এবং সেই তথ্য চীনা ভাষায় লেবেল করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ছবিতে দেখা গিয়েছিল—
KC-135 ও KC-46 আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমান
E-3 Sentry আগাম সতর্কতা রাডার বিমান
C-130 ও C-5 পরিবহন বিমান
এগুলো একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে।
ইরানের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা?
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবি ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যের উৎস হতে পারে। কারণ ওই ছবি প্রকাশের কিছু সময় পরই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সামরিক স্থাপনা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। যদিও সরাসরি চীন ইরানকে তথ্য দিয়েছে,এমন প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই, তবে এই ঘটনায় সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের গোয়েন্দা তথ্যের নতুন যুগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রেজোলিউশনের বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আধুনিক যুদ্ধের গোপনীয়তা ভেঙে দিচ্ছে। আগে যেখানে কেবল কয়েকটি শক্তিধর দেশের হাতে এমন নজরদারি ক্ষমতা ছিল, এখন বেসরকারি কোম্পানিও স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে সামরিক তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারছে।
একজন বিশ্লেষকের ভাষায়, আগে যুদ্ধের প্রস্তুতি গোপনে নেওয়া সম্ভব ছিল। এখন স্যাটেলাইট প্রতিদিন সামরিক ঘাঁটির ছবি তুলছে, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই ছবিতে প্রতিটি বিমান শনাক্ত করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধে শুধু অস্ত্রশক্তি নয়, মহাকাশভিত্তিক নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তিও বড় ভূমিকা রাখছে। স্যাটেলাইট ও ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা তথ্যের কারণে ভবিষ্যতে বড় সামরিক প্রস্তুতি গোপন রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি