আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু করেছে, যা ১১ দিনব্যাপী চলবে। এ মহড়ায় হাজারো সেনা অংশ নিচ্ছে। মহড়ার অংশ হিসেবে ‘ওয়ারিয়র শিল্ড’ নামে একটি ফিল্ড ট্রেনিং কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে বাস্তবসম্মত যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুশীলন করা হচ্ছে। মূলত কম্পিউটার সিমুলেশন এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে এই মহড়া পরিচালিত হয়।
বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, বিশ্ব বর্তমানে অস্থিরতার এক জটিল সময় পার করছে। বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো দ্রুত ভেঙে পড়ছে। তার ভাষায়, উন্মত্ত আন্তর্জাতিক দুষ্কৃতকারীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বজুড়ে সংঘাত বাড়ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। যদিও তিনি সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কথা উল্লেখ করেননি, তবুও তার বক্তব্যে বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ উঠে আসে।
উত্তর কোরিয়ার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই ধরনের যৌথ মহড়া আসলে সম্ভাব্য আক্রমণের প্রস্তুতি। দীর্ঘদিন ধরে পিয়ংইয়ং এ ধরনের মহড়াকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। প্রায়ই এসব মহড়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে উত্তর কোরিয়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয়।
কিম ইয়ো জং আরও বলেন, বাহ্যিক হুমকির মুখে উত্তর কোরিয়া তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও ধ্বংসাত্মক শক্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে। তিনি দাবি করেন, দেশটি তাদের শত্রুদের সামনে বারবার প্রমাণ করবে যে তাদের যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং যে কোনো ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া বরাবরই বলে আসছে, তাদের যৌথ মহড়া সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কেবল সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ। তবে উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক মহড়া ও পাল্টা হুঁশিয়ারির এই ধারাবাহিকতা কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন তারা।