স্পোর্টস ডেস্ক: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর নতুন প্রত্যাশা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ আজ মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর সোয়া দুইটায়।
বিশ্বকাপে দুই দলই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বাংলাদেশ আসরে অংশ নিতে না পারলেও পাকিস্তান খেলেও সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। ফলে বিশ্বকাপ-পরবর্তী এই সিরিজকে দুই দলের জন্যই নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সিরিজের মাধ্যমে প্রায় তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ দল। দলের কোচিং স্টাফরা মনে করছেন, ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় ইনিংসের মধ্যভাগে আরও উন্নতি প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই দলে আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন। মিডল অর্ডার শক্তিশালী করতে দলে ফিরেছেন লিটন দাস ও আফিফ হোসেন।
সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও তার আগে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের কাছে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করে ধারাবাহিকতা ফেরানোর লক্ষ্য টাইগারদের।
বোলিং বিভাগে বাংলাদেশের শক্তি হিসেবে থাকছেন পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের সঙ্গে লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনও দলে রয়েছেন। স্পিন বিভাগে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানভীর ইসলাম। প্রয়োজনে পেস আক্রমণে বিকল্প হিসেবে থাকবেন শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
অন্যদিকে পাকিস্তান দল এই সিরিজে তুলনামূলকভাবে তরুণ ও অনভিজ্ঞ স্কোয়াড নিয়ে এসেছে। ১৫ সদস্যের দলে ছয়জন অনভিষিক্ত ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে, যা দলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এদের মধ্যে চারজনই টপ অর্ডারের ব্যাটার। তাদের মধ্যে অন্যতম সাহিবজাদা ফারহান, যিনি সাম্প্রতিক টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তার সঙ্গে টপ অর্ডারে থাকতে পারেন শামিল হোসেন ও মাজ সাদাকাত।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের টপ অর্ডারের অনভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ বড় সুবিধা পেতে পারে। বিশেষ করে তাসকিন ও মোস্তাফিজ শুরুতেই উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচে এগিয়ে থাকবে স্বাগতিকরা।
সব মিলিয়ে নতুন উদ্যমে শুরু হওয়া এই সিরিজে দুই দলই নিজেদের শক্তি ও সম্ভাবনা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ–পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ।