আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হারিয়ে যাওয়া ছয়টি পারমাণবিক বোমা ঘিরে। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এসব বোমা সাগরের গভীরে হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে, যেগুলো এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন সামরিক পরিভাষায় এ ধরনের দুর্ঘটনাকে “ব্রোকেন অ্যারো” বলা হয়। অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়ে যাওয়া, দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ বা এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা। নথিভুক্ত ৩২টি ব্রোকেন অ্যারো ঘটনার মধ্যে এখনো ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেডের হদিস পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণই একটি বড় শহর ধ্বংস করে দিতে পারে এবং লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে। ফলে হারিয়ে যাওয়া এসব অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
টাইবি আইল্যান্ডের ঘটনা
১৯৫৮ সালে একটি বি–৪৭ বোমারু বিমান ও একটি যুদ্ধবিমানের মধ্যে আকাশে সংঘর্ষের পর একটি মার্ক–১৫ হাইড্রোজেন বোমা যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের টাইবি আইল্যান্ডের কাছে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। প্রায় ৭,৬০০ পাউন্ড ওজনের ওই বোমাটির বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩.৮ মেগাটন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত ‘ফ্যাট ম্যান’ বোমার চেয়েও প্রায় ১৯০ গুণ বেশি শক্তিশালী।
সংঘর্ষের পর সম্ভাব্য বিস্ফোরণ ঠেকাতে পাইলট বোমাটি সমুদ্রে ফেলে দেন। পরে নৌবাহিনীর শতাধিক সদস্য সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই মাস ধরে অনুসন্ধান চালালেও সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ভূমধ্যসাগরের আরেক ঘটনা
১৯৬৬ সালে ভূমধ্যসাগরের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক বিমানের সংঘর্ষে চারটি বি–২৮ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে তিনটি উদ্ধার করা গেলেও একটি বোমা এখনো নিখোঁজ।
নিরাপত্তা উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, এসব অস্ত্র সমুদ্রের গভীরে পড়ে থাকলেও তাত্ত্বিকভাবে ভবিষ্যতে কেউ এগুলো খুঁজে পেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা ও বিস্তার ঠেকানোর বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি