আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের ছোট শহর কেরজার্সে একটি বাসে আগুন লেগে ছয়জন মারা গেছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার পেছনে সম্ভবত বাসে থাকা একজন ব্যক্তি নিজেকে জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনা রয়েছে।
ফ্রিবুর্গ পুলিশ মুখপাত্র ফ্রেডেরিক পাপাউক্স বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের তথ্য অনুসারে, এটি সম্ভবত বাসের মধ্যে থাকা একজন ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত কাজ। অন্য পুলিশ মুখপাত্র ক্রিস্টা বিয়েলমান জানিয়েছেন, এখনই বলা যাচ্ছে না এটি কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা।
তিনজন আহতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুইজনকে তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়নি। পাপাউক্স বলেন, আগুন লাগার সময় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে বাস থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আগুন নিভানোর পর বাসের ছাই হয়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।
সুইস মিডিয়া ২০ মিনিটস জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে নেওয়া একটি ভিডিওতে একজন আহত ব্যক্তি বলেছেন, একজন পুরুষ নিজেকে জ্বালিয়ে দিয়েছে। সে গ্যাসোলিন ঢেলে নিজেকে আগুন ধরিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাসটি হঠাৎ করে রাস্তার মাঝখানে থেমে একটি ছোট আগুন ধরে ফেলে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন ঘটনা কেরজার্সে আগে কখনও ঘটেনি। ৮২ বছর বয়সী মারগ্রিট শ্নাইডার কেঁদে বলেন, আমি এখানে ৬৫ বছর ধরে বসবাস করছি, এমন কিছু আগে কখনও হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এখনও স্পষ্ট নয়, আগুন লাগানোর অভিযোগে থাকা ব্যক্তি নিহতদের মধ্যে ছিলেন কি না। বাস কোম্পানি পোস্টঅটো এর প্রধান স্টেফান রেগলি বলেন, এটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। সমস্ত কর্মীরা এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।
সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে আবারও মানুষকে আগুনে প্রাণ হারাতে দেখে আমি স্তম্ভিত এবং দুঃখিত।
উল্লেখ্য, এর আগে জানুয়ারি মাসে সুইস স্কি রিসোর্ট ক্রান্স-মোন্টানা তে একটি বার আগুনে ৪১ জন নিহত হন এবং ১১৫ জন আহত হন। স্থানীয়রা বলছেন, ক্রান্স-মোন্টানা এবং কেরজার্সের ঘটনা স্বাভাবিক জীবনে ভয়াবহ আতঙ্ক তৈরি করছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি