রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, কোনো ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসর যেন সংসদে বক্তব্য দিয়ে জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত করতে না পারে। তিনি এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় বলেন।
নাহিদ ইসলাম স্পিকারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আজকে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কারণে আমরা এই মহান সংসদে বসতে পেরেছি। আমরা সকলেই ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সৈনিক। আপনার প্রতি নিবেদন থাকবে, কেউ সংসদকে কলুষিত করতে পারবে না।
তিনি বিচার দাবি করেন জুলাই গণহত্যার জন্য এবং শরীফ ওসমান হাদী হত্যা, গুম-খুন, লুটপাট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে। নাহিদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা হলো নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ, যেখানে সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মিছিলের মাধ্যমে এই সংসদকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করা হয়েছিল। আজ হাজারো শহীদ ও আহত-পঙ্গু দেশপ্রেমিকের সর্বোচ্চ ত্যাগের ফসল হিসেবে তারা সংসদে বসতে পেরেছেন।
নাহিদ ইসলাম জুলাই শহীদদের পাশাপাশি ৪৭-এর লড়াই, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর, মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং গত ২৪ বছরের শহীদদেরও স্মরণ করেন। তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শিশু আহাদ ও রিয়ার মতো শহীদ শিশুদের কথা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে উল্লেখ করেন।
তিনি আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, প্রবাসী এবং শিক্ষার্থীদের সাহসিক অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভ্যানগার্ড ছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলো, যাদের মধ্যে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম