রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: পোশাক খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন ও সম্ভাব্য অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে অযৌক্তিক ও অস্বস্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি(ইউএসটিআর) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন ধারা ৩০১ অনুযায়ী এ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি, পদক্ষেপ বা উৎপাদন কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না এবং সে কারণে মার্কিন বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না।
বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো ও জাপানের বিরুদ্ধেও এই তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ইউএসটিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এসব দেশে শ্রম অধিকার লঙ্ঘন, অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা, উৎপাদন ও রপ্তানিতে সরকারি প্রণোদনা বা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের মতো কোনো বিষয় আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। এসব বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখছেন না বলে জানান মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, দেশে মেধাস্বত্বভিত্তিক উৎপাদনের চর্চা এখনো সীমিত এবং মার্কিন ব্র্যান্ডের পণ্যের বাজারও তুলনামূলক ছোট। শ্রম অধিকার সম্পর্কিত অনেক বিষয় ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। রপ্তানিতে প্রণোদনার পরিমাণও খুব বেশি নয়।
তিনি আরও বলেন, কৃষি খাতে প্রণোদনার বিষয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও কৃষিতে ব্যাপক প্রণোদনা দেয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকার মূলত সারের মতো কিছু খাতে সীমিত সহায়তা দেয়।
মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নিজস্ব শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই এমন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ দেশটির ভোক্তা বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড়। তবে বাংলাদেশ যে ধরনের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা সাধারণত উৎপাদন করেন না।
এদিকে তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকায় বিষয়টি মোকাবিলায় সরকারকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হবে, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরা যায়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি