আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ পথের নিয়ন্ত্রণ ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা।
কোথায় হরমুজ প্রণালী
প্রায় ১০০ মাইল দীর্ঘ এই প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২১ মাইল। উত্তরে রয়েছে ইরান, আর দক্ষিণে ওমান। পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী আরও ছয়টি দেশ— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন,কুয়েত ও ইরাক এই পথের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এসব দেশই বিশ্বের প্রধান তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র।
কেন এত দাপট ইরানের
হরমুজ প্রণালীর উত্তরের প্রায় পুরো উপকূলজুড়ে ইরানের অবস্থান হওয়ায় কৌশলগতভাবে দেশটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হলেও সরু অংশে ইরান ও ওমান উভয়েরই জলসীমা রয়েছে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রণালীর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে ইরান। সাম্প্রতিক সংঘাতে তেহরান এ পথের ওপর নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করে জলে মাইন পাতা ও জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এ পথ দিয়ে যায়। বিশেষ করে চীন, ভারত ও বাংলাদেশসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলো এই সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-তৃতীয়াংশও এই প্রণালী দিয়ে যায়।
যুদ্ধের প্রভাব
বর্তমান সংঘাতে প্রণালীতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার জাহাজ এই পথে চলাচল করে যুদ্ধের কারণে সেই প্রবাহ ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট ইন্ডিয়ার জ্বালানি সরবরাহেও চাপ সৃষ্টি করেছে। ভারত প্রায় ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করলেও এলপিজি ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। বিশেষ করে এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশ এই পথ দিয়ে আমদানি হয়। ফলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প সরবরাহ পথ খুঁজতে হতে পারে।
বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান দরজা হওয়ায় হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতে এই ১০০ মাইলের জলপথ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি