আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে বাংলাদেশ-ভারতসহ বিশ্বের ৬০টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারর দপ্তর জানায়, তদন্তের উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছে কি না তা নির্ধারণ করা।
এই তদন্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, চীন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কানাডা ও ইসরায়েলও এই তালিকায় রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকান শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো এমন বিদেশি উৎপাদকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে, যারা জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যয় কৃত্রিমভাবে কমিয়ে সুবিধা নিচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর ইতোমধ্যে ‘অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা’ সংক্রান্ত অভিযোগে ভারতসহ ১৬টি দেশ ও অর্থনৈতিক জোটের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা সৃষ্টি এবং বৈষম্যমূলক নীতির মতো বিষয়ও রয়েছে।
এই তদন্তগুলো পরিচালিত হচ্ছে Trade Act of 1974 – Section 301 এর আওতায়, যা যুক্তরাষ্ট্রকে অন্য দেশের অন্যায্য বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। প্রয়োজনে এর ভিত্তিতে নতুন শুল্ক আরোপ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করার পর এই নতুন তদন্তকে বিকল্প বাণিজ্যিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার আওতায়ও ওই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।এনডিটিভি
রিপোর্টার্স২৪/এসসি