আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও অন্যান্য এলাকায় পাকিস্তান পরিচালিত বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে তালেবান প্রশাসন ও আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)।
শুক্রবার(১৩মার্চ) তালেবান কর্তৃপক্ষ জানায়, কাবুলের আবাসিক এলাকায় রাতভর চালানো হামলায় অন্তত চারজন নিহত ও এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশের মোমানদারা জেলায় পাকিস্তানের ছোড়া একটি মর্টার শেল একটি বাড়িতে আঘাত করলে সেখানে এক নারী ও একটি শিশু নিহত হয় বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনও জানিয়েছে, কাবুলের পুল-ই-চারখি এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।
তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে বেসরকারি বিমান সংস্থা কাম এয়ার-এর জ্বালানি ডিপোতেও পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, এই ডিপো থেকে বেসামরিক উড়োজাহাজ ও জাতিসংঘের বিমানে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।
তবে পাকিস্তান সরকার বেসামরিক স্থাপনা বা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বলেন, ‘গাজব লিল হক’ নামের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে কাবুল, পাক্তিয়া ও কান্দাহারে জঙ্গি ঘাঁটি ও সন্ত্রাসী সহায়ক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার জবাবে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কোহাটে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এতে ঘাঁটিটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আফগান কর্তৃপক্ষ জানায়। কোহাটে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
গত মাসে পাকিস্তানের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নতুন করে শুরু হয়। ইসলামাবাদ দাবি করে, আফগান ভূখণ্ডে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
এর আগে সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিল চীন। এমনকি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উভয় পক্ষকে লড়াই বন্ধ করার আহ্বান জানান। তবু নতুন হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে তালেবান সরকার দাবি করেছে, নিহত বেসামরিকের সংখ্যা ১১০–এর বেশি। তবে পাকিস্তান এই দুই পরিসংখ্যানই প্রত্যাখ্যান করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি