আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের সামরিক ও নাগরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির শুক্রবার (১৩ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯৭৫ জন ইসরায়েলি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে ৮৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন হাসপাতাল রোগী ভর্তি ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমে ব্যস্ত রয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’-এর ৪৪তম ধাপ শুরু করেছে। আইআরজিসি জানায়, এই সামরিক অভিযান প্রতিরোধ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের স্মরণে পরিচালনা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক জেনারেল কাসেম সোলাইমানি, হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ, এবং ফিলিস্তিনি নেতারা ইসমাইল হানিয়া।
আইআরজিসি জানিয়েছে, পবিত্র রমজান মাসের ২৩তম রাতে পরিচালিত এই অভিযানে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত শহর লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে হাইফা ও হাদেরা। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনাও হামলার আওতায় এসেছে।
বর্তমানে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রভাব সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সামরিক কার্যক্রম ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে এবং সামরিক ও নাগরিক উভয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
সংঘাত চলমান থাকায় ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও সঙ্কটের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আহতদের চিকিৎসা ও হাসপাতালে ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান। সামরিক বিশ্লেষকরা ইরানের হামলার ধারা, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি