আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বন্ধ করতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ইরানের রয়েছে বলেও সমর্থন জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার এক বিবৃতিতে হামাস তাদের ‘ইরানি ভাইদের’ উদ্দেশে বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং চলমান আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার আলোকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে। তবে এ প্রতিক্রিয়া যেন প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে না যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল l ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ জানিয়েছে।
হামাস আরও বলেছে, অঞ্চলের দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করে এই সংঘাত বন্ধ করতে হবে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান হামাসকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এই সংগঠনটি তথাকথিত “অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স”-এর অংশ, যেখানে হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীও অন্তর্ভুক্ত।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে ইসরাইল ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সময় উপসাগরীয় দেশগুলো বিশেষ করে কাতার মধ্যস্থতা, কূটনীতি ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এদিকে গাজা যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি বাহিনী গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে শতাধিক লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে, যাতে বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি