আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননের দক্ষিণ ও বেইরুটের দক্ষিণ উপনগরীতে ইসরায়েলি হামলা তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শনিবার সতর্কবার্তা দিয়েছেন, “এই অঞ্চলে কোনো সামরিক সমাধান নেই, কেবল কূটনীতি।” তিনি লেবাননের মানুষদের উপর প্রায় ৮ লক্ষাধিক স্থানান্তরিত মানুষের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য $৩২৫ মিলিয়নের ফ্ল্যাশ আপিল ঘোষণা করেছেন।
গুতেরেস বলেন, “দক্ষিণ লেবানন ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকায় পরিণত হতে পারে। দক্ষিণ বেইরুট, যেখানে ইসরায়েল ব্যাপক খালি করার নির্দেশ দিয়েছে, ধ্বংসের মুখে রয়েছে। যে কোনো পদক্ষেপ যা নাগরিকদের যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন।”
হামলার মানবিক ক্ষতি
ইসরায়েলি বিমান ও আর্টিলারি হামলায় ২ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত লেবাননে অন্তত ৮২৬ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২,০০০-এর বেশি। নিহতদের মধ্যে ৬৫ নারী, ১০৬ শিশু এবং ৩১ জন প্যারামেডিক অন্তর্ভুক্ত। বিশেষভাবে বুর্জ ক্বালাউয়ায় রাতে এক হাসপাতাল লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়, যেখানে ১২ জন ডাক্তার ও প্যারামেডিক নিহত হন।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা চিকিৎসা কেন্দ্র বা অ্যাম্বুল্যান্সকে সামরিক কাজে ব্যবহার করছে না, কিন্তু ইসরায়েল তা প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
আলোচনার প্রস্তুতি
লেবানন উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র জানায়, একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল গঠনের পরিকল্পনা চলছে, যা সাইপ্রাস বা ইউরোপের অন্য কোনো রাজধানীতে আলোচনায় অংশ নিতে পারে। সংসদ স্পিকার নাবিহ বেরি আগে যুদ্ধবিরতি চেয়েছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন প্যারিসে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাই জ্যারেড কুশনার আলোচনায় যুক্ত হতে পারেন। ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ কনফিড্যান্ট। আলোচনার মূল বিষয়: লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং হিজবুল্লাহকে অস্ত্রমুক্ত করা।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইসরায়েল লেবাননে “নতুন গণহত্যা” চালাতে পারে। এর প্রেক্ষিতে গাজায় ৭২,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনীয় নিহত হওয়ার ভয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে প্রভাব
বাংলাদেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব বেশ সুস্পষ্ট। তেলের বাজারে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যমান মূল্যবৃদ্ধি আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষত: রান্নার গ্যাস, পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রবাসী কর্মী পাঠানো ও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সাথে যুক্ত শিপিং লেনগুলোতে অবরোধ বা হামলা চালানো হলে বাংলাদেশসহ তেলের আমদানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
জাতিসংঘের চাপ, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে গ্লোবাল এনার্জি মার্কেট এবং প্রবাসী রেমিট্যান্সের উপর সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রস্তুতি নিতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি