স্পোর্টস ডেস্ক: গত ডিসেম্বরে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত নারী কাভা কাপ ভলিবল টুর্নামেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ নারী ভলিবল দল। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিন মাস পর খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার ও ক্রেস্ট।
শনিবার রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত শহীদ নুর হোসেন ন্যাশনাল ভলিবল স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের স্কোয়াডে থাকা ১৪ জন নারী ভলিবল খেলোয়াড়ের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি কোচ, ম্যানেজার, নারী কো-অর্ডিনেটরসহ দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ৬ জন কর্মকর্তাকেও ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, এই সম্মাননার পুরো অর্থই ফেডারেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মোহাম্মদ মাহবুব-উল-আলম। তিনি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের হাতে আর্থিক পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনা খেলোয়াড়দের যথাযথ সম্মান দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারী ভলিবল দলের এই অর্জন ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সভাপতি ফারুখ হাসান। তিনি বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নারী ভলিবল দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য যে সাফল্য এনে দিয়েছে, তা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভবিষ্যতে এই দলকে আরও শক্তিশালী করতে ফেডারেশন বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী, সাধারণ সম্পাদক বিমল ঘোষ ভুলু, সহ-সভাপতি মাছুদুল আলম, নারী ভলিবল কমিটির চেয়ারম্যান শারমিন হাসান তিথি, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মুমিন সাদ্দাম, কোষাধ্যক্ষ ইমরান হায়দার কাঞ্চন এবং সদস্য সোহেল রানা লিংকন।
উল্লেখ্য, নারী কাভা কাপ ভলিবল টুর্নামেন্টে ব্রোঞ্জ পদক অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নারী ভলিবল দল প্রথমবারের মতো এই আসরে পদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মেয়েরা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।