স্পোর্টস ডেস্ক: দীর্ঘ ১২ বছর পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে জয় তুলে নিয়েছে নিউক্যাসল ইউনাইটেড। ম্যাচের একমাত্র গোল করে দলকে জয়ের স্বাদ এনে দেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন। ২০১২ সালের পর চেলসির মাঠে নিউক্যাসলের এটি প্রথম জয়। পুরো ম্যাচ জুড়ে চেলসির রক্ষণভাগকে দারুণভাবে চাপে রাখেন গর্ডন।
ম্যাচ শেষে নিউক্যাসলের প্রধান কোচ এডি হাও গর্ডনের প্রশংসা করে বলেন, আজ সে অসাধারণ খেলেছে। সে সবসময় খুব মনোযোগী এবং নিজের লক্ষ্য নিয়ে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে গর্ডনকে দলে নেওয়ার বিষয়ে চেলসি আগ্রহ দেখিয়েছিল। সে সময় ক্লাবটির সহ-মালিক টড বোহলি কার্যত স্পোর্টিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং গর্ডনকে দলে ভেড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সেই চুক্তি শেষ পর্যন্ত হয়নি। এখন চার বছর পর গর্ডনের এমন পারফরম্যান্স দেখে চেলসির জন্য সেই সিদ্ধান্তটি নিয়ে অনুশোচনা তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ম্যাচের আগে একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়। রেফারি পল টিয়ার্নিকে চেলসির খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠের মাঝখানে দলীয় আলোচনায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। চেলসির মিডফিল্ডার কোল পামারকে রেফারির সঙ্গে হাস্যরস করতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। এ বিষয়ে নিউক্যাসল কোচ এডি হাও বলেন, আমি এ ধরনের বিষয় খুব একটা গুরুত্ব দিই না।
চেলসির কোচ লিয়াম রোজেনিওরও বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, এটা ছিল দলের নেতৃত্বগোষ্ঠী এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত। এতে প্রতিপক্ষের প্রতি অসম্মান দেখানোর কিছু নেই।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিউক্যাসল ছিল সংগঠিত ও পরিকল্পিত। বিশেষ করে ডিফেন্সে স্ভেন বোটম্যান ছিলেন অনবদ্য। তার নেতৃত্বে নিউক্যাসলের রক্ষণভাগ চেলসির আক্রমণভাগকে বারবার হতাশ করেছে। ম্যাচ শেষে চেলসি সমর্থকদের অনেকেই খেলোয়াড় এবং কোচের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ম্যাচের নির্ধারক মুহূর্তটি আসে প্রথমার্ধে। টিনো লিভরামেন্টোর পাস থেকে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে সামনে এগিয়ে যান জো উইলক। তার পাস পেয়ে সহজেই ফাঁকা জালে বল পাঠান গর্ডন। চেলসির ডিফেন্ডার ট্রেভোহ চালোবা সে সময় নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে ব্যর্থ হন।
গোল খাওয়ার পর চেলসি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও তাদের আক্রমণে ধার কম ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে লিয়াম ডেলাপ মাঠে নামার পর কিছুটা গতি আসে আক্রমণে। তিনি একটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও নিউক্যাসলের গোলরক্ষক অ্যারন র্যামসডেল দারুণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
মাঝমাঠে নিউক্যাসলের জ্যাকব র্যামসি ছিলেন দারুণ ছন্দে। গত গ্রীষ্মে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এটি সম্ভবত তার সেরা পারফরম্যান্স। ম্যাচ শেষে কোচ এডি হাও বলেন, যারা আজ একাদশে সুযোগ পেয়েছিল, তারা সবাই নিজেদের প্রমাণ করেছে।
অন্যদিকে চেলসির আক্রমণভাগে জোয়াও পেদ্রো ও কোল পামার কয়েকটি সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি। পামার এক পর্যায়ে নিউক্যাসল ডিফেন্ডার নিক ভল্টেমাডের চ্যালেঞ্জে পেনাল্টি দাবি করেন, কিন্তু রেফারি তা নাকচ করে দেন।
ম্যাচের শেষ দিকে রিস জেমসের নেওয়া ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে, যা চেলসির হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১–০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নিউক্যাসল। ম্যাচ শেষে নিউক্যাসলের ড্রেসিংরুমে উচ্ছ্বাস দেখা যায়, কারণ দীর্ঘদিন পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে জয় পেয়েছে তারা।
অন্যদিকে চেলসির জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ক্লাবটির মালিকানায় টড বোহলির সময়কালে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হলেও দলটি এখনও ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছে না। ফলে কোচ লিয়াম রোজেনিওর এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি