আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। রোববার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে। এ সময় তেল আবিবের আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে কাজ করেছে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি ফ্রান্সের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে ফোনালাপে দেশগুলোকে উত্তেজনা প্রশমনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, কোনো দেশও সংঘাতকে উসকে দিতে পারবে না। আরাগচি আরও বলেছেন, ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষায় আপস করবে না, এবং সামরিক বাহিনী শুধুমাত্র ‘আগ্রাসনকারীদের’ লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০২ শিশু এবং ২২৩ নারী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন অন্তঃসত্ত্বা মা। আহতের সংখ্যা আরও বেশি।
ইরানের ড্রোন হামলায় ইসরায়েলের একটি বিশেষ পুলিশ ইউনিট সদরদপ্তর ‘লাহাভ ৪৩৩’ এবং ‘গিলাত’ প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরাক ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতেও সফল হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। এরবিলের হারির বিমান ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম ও আরিফজান ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কোনো চুক্তিতে তিনি এখনই যেতে রাজি নন। তিনি বলেন, শর্তগুলো যথেষ্ট ভালো নয়। যেকোনো চুক্তি অত্যন্ত মজবুত হতে হবে। তিনি ইরানের নবনিযুক্ত নেতা মোজতবা মোজতবা খামেনি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, আমি জানি না তিনি বেঁচে আছেন কি না। থামোজতবা খামেনিকলে তাঁর দেশের জন্য আত্মসমর্পণই বুদ্ধিমানের কাজ।
ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার কারণে দ্রুত ইরাক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ড্রোন প্রতিরক্ষা বিষয়ে সাহায্য বিনিময়ের বিনিময়ে তারা অর্থ ও প্রযুক্তি চাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েলি মিডিয়া জানিয়েছে, মধ্য ইসরায়েলে সাইরেন বেজে উঠেছে এবং জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানি হামলার কারণে শিল্প ও আবাসনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং পরিস্থিতি জনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও প্রভাব ফেলেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি