স্পোর্টস ডেস্ক: চোখেমুখে তৃপ্তির হাসি—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। বলটা সীমানার বাইরে পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত ছড়িয়ে দিলেন তানজিদ হাসান তামিম। হেলমেট খুলে রেখেছিলেন আগেই, সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর সেজদায় লুটিয়ে পড়েন তিনি, পরে এগিয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন সতীর্থ লিটন দাস।
নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তামিম। তিনি বলেন, এটা আমার জন্য খুবই বিশেষ একটি মুহূর্ত। সমর্থকদের ধন্যবাদ। টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছে এবং সবসময় বিশ্বাস রেখেছে।
২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই তানজিদকে ঘিরে ছিল বড় প্রত্যাশা। পারফরম্যান্সও খারাপ ছিল না, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বড় ইনিংস—তিন অংকের দেখা পাচ্ছিলেন না। এর আগে ৩০টি ওয়ানডেতে তার ছিল ৫টি এবং ৪৫টি টি–টোয়েন্টিতে ১১টি হাফ সেঞ্চুরি। কিন্তু সেঞ্চুরির আক্ষেপ কাটছিল না। অবশেষে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে সেই আক্ষেপ ঘুচালেন এই তরুণ ওপেনার।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে ব্যাটিং করা সহজ ছিল। তবে ২০ ওভারের পর উইকেটে ব্যাটিং কিছুটা কঠিন হয়ে যায়। বল পুরনো হয়ে গেলে নতুন ব্যাটারদের জন্য রান করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন আমি চেষ্টা করেছি ইনিংসটা ধরে রাখতে।
সাম্প্রতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে একাদশে জায়গা পাননি তানজিদ। ওপেনিংয়ে দলের পছন্দ ছিল সোম্য সরকার ও সাইফ হাসান। তবু ঘরোয়া ক্রিকেট ও প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হয় তাকে। সেই ম্যাচে ১১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৪২ বলে ৬৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ১ রান করে হতাশ করেন তিনি। আজকের ম্যাচেও ব্যর্থ হলে দলে তাকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারত।
কিন্তু মিরপুরে আবারও নিজের চেনা ছন্দে ফিরলেন তানজিদ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তিনি। পাওয়ার প্লের সময় ১০ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ ছিল ৫০ রান, যার মধ্যে তানজিদের অবদান ৩০ রান (৩৩ বল)। এই সময়ের মধ্যেই দুই ছক্কা হাঁকিয়ে একটি রেকর্ডও গড়েন তিনি। ওয়ানডেতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড এখন তার দখলে।
বাউন্ডারি মারার দক্ষতায় তানজিদ বরাবরই আলোচিত। তবে ইনিংস লম্বা করতে না পারার সমালোচনাও ছিল। এবার আর সেই ভুল করেননি। ৪৭ বলে তুলে নেন ফিফটি এবং ৯৮ বলে পৌঁছে যান ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে।
তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৭টি ছক্কা। এতে মিরপুরে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার কীর্তিও এখন তার দখলে।
তিন অংক ছোঁয়ার পর অবশ্য ইনিংসটা খুব বেশি বড় করতে পারেননি তানজিদ। তখন তার শরীরী ভাষায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। শেষ পর্যন্ত ১০৭ বলে ১০৭ রান করে আউট হন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের জন্য বড় সংগ্রহের শক্ত ভিত গড়ে দেন এই তরুণ ওপেনার।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি