আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশই জানিয়েছে, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে তারা আপাতত কোনো নৌবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যেসব দেশ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে, তাদেরও এই প্রণালি নিরাপদ রাখতে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সাতটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাম তিনি প্রকাশ করেননি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশকে উদ্যোগটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইছি জানিয়েছেন, তাদের সংবিধানে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পার্লামেন্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাহারা দিতে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আমাদের আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কী করা সম্ভব, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবেনিজর সরকারের মন্ত্রী ক্যাথরিন কিং বলেন, প্রণালির গুরুত্ব সম্পর্কে তারা অবগত থাকলেও সেখানে জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কোনো অনুরোধ পায়নি অস্ট্রেলিয়া এবং তারা এমন কোনো উদ্যোগেও যুক্ত হচ্ছে না।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, চীন যদি হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দূর করতে সহায়তা না করে, তাহলে চলতি মাসের শেষ দিকে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে তার নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, চীন তাদের জ্বালানির বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে আমদানি করে, তাই এ ক্ষেত্রে তাদেরও ভূমিকা রাখা উচিত।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সীমিত নৌ মিশন জোরদারের বিষয়টি আলোচনা করার কথা রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি মিশনের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন কূটনীতিকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও। দুবাই, দোহা ও আবুধাবিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত বা বন্ধ রয়েছে ফ্লাইট চলাচল। এতে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং বিপাকে পড়েছেন বহু যাত্রী।
এদিকে ড্রোন হামলার কারণে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার পর সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। অপরদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে এক ঘণ্টায় ৩৪টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। যদিও কিছু ইরানি জাহাজ এবং কয়েকটি দেশের জাহাজ সীমিতভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে এবং তখন জ্বালানির দামও কমে আসবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, তাদের দেশ দীর্ঘ সময় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
তিনি বলেন, আমরা কখনো যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার অনুরোধ করিনি। যতদিন প্রয়োজন হবে, আমরা নিজেদের রক্ষা করতে প্রস্তুত।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি