স্পোর্টস ডেস্ক: দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) উদ্যোগ। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে সংস্থাটি।
ক্লাব ও জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট সংগঠকদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বিসিবি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিসিবি নির্বাচনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের পর সোমবার এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান জানায় বিসিবি।
বিবৃতিতে বিসিবি বলেছে, বর্তমান বোর্ড একটি যথাযথভাবে নির্বাচিত ও কার্যকর প্রশাসন, যা সংবিধান ও প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে দায়িত্ব পালন করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বোর্ড দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। তবে এনএসসির প্রকাশিত গেজেটের ফলে বোর্ডের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা এবং নির্বাচিত প্রশাসনের ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক নিয়মের বিষয়টিও তুলে ধরে বিসিবি। বোর্ড জানায়, তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বৈশ্বিক প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর পূর্ণ সদস্য। আইসিসির প্রশাসনিক নীতিমালার অধীনে কোনো নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে বাহ্যিক হস্তক্ষেপের ধারণা সৃষ্টি হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং প্রয়োজনে আইসিসির শাসন ও কমপ্লায়েন্স কাঠামোর আওতায় পর্যালোচনা শুরু হতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে—এমন কোনো পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অবস্থান বিবেচনায় বিসিবি বিষয়টি সতর্কতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে আইসিসির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ বা কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিসিবি সরাসরি এনএসসির সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। গেজেট প্রকাশের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা জানতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
বিসিবি বলেছে, দেশের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রিকেট প্রশাসনিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচিত ক্রিকেট প্রশাসনের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে বিসিবির অনুরোধ—বিষয়টি এমনভাবে নিষ্পত্তি করা হোক, যাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা ও অগ্রযাত্রা অক্ষুণ্ন থাকে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানও সুরক্ষিত থাকে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি