রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সপ্তাহে একদিন অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। এখন থেকে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি পালন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দেশটির রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিসানায় বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে একই সঙ্গে আশাবাদও বজায় রাখতে হবে।
শুধু শ্রীলঙ্কাই নয়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার অন্যান্য দেশও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। থাইল্যান্ডে মানুষকে হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমে। মিয়ানমারে বিকল্প দিনে গাড়ি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি এগিয়ে আনা এবং পরিকল্পিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট চালু করা হয়েছে। এছাড়া ফিলিপাইনসে সরকারি অফিসে সপ্তাহে একদিন বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভিয়েতনামে মানুষকে ঘরে বেশি সময় থাকার ও গাড়ি কম ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় নতুন এই চার দিনের কর্মসপ্তাহ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়েও কার্যকর হবে। তবে হাসপাতাল, পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগের মতো জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। বুধবারকে ছুটির দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে টানা তিন দিন অফিস বন্ধ না থাকে।
এদিকে, জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে চালু করা হয়েছে জাতীয় জ্বালানি পাস। এর আওতায় ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অনেকেই এই পরিমাণকে অপ্রতুল বলে মনে করছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করেছিল দেশটি।
বিশ্ববাজারেও জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে