রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: আল আকসা মসজিদ কমপ্লেক্স আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং পরবর্তী দিনগুলোতেও বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের মসজিদের প্রশাসনিক সূত্র ‘মিডল ইস্ট আই’কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি আল আকসা তদারকির দায়িত্বে থাকা ইসলামী ওয়াকফ কমিটিকে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতকে ভিত্তি করে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ অজুহাত দেখিয়ে চলতি মাসের শুরু থেকেই মসজিদটি বন্ধ রাখা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে এমন পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিরা নজিরবিহীন বলছেন এবং অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তার অজুহাতে আল আকসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম রমজান মাসে ফিলিস্তিনিরা আল আকসায় জুমার নামাজ আদায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদ বন্ধ থাকার পর থেকে প্রতিটি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মী প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন, এবং অতিরিক্ত একজনের আবেদনও বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বেশি কর্মী ঢুকলে কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।
ওয়াকফ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মসজিদের প্রধান নামাজের হল এবং ডোম অব দ্য রক-এর ভেতরে গোপন নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, জেরুজালেমের পুরানো শহর কার্যত অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে; শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
গত রোববার পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করে আল-আকসার সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এতে হাজার হাজার মুসল্লি বাধ্য হয়ে রাজপথে নামাজ আদায় করেন।
মসজিদের অধ্যাপক ড. মুস্তফা আবু সোয়ে বলেন, পুরানো শহরের ভেতর ও বাইরের পরিস্থিতির তীব্র পার্থক্য বিস্ময়কর। ওয়াকফ কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাযবায সতর্ক করে বলেছেন, সাময়িক অজুহাতে আরোপিত এই বিধিনিষেধ স্থায়ী রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দখলদার শক্তি অধিকৃত অঞ্চলে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে না। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই আল-আকসার ঐতিহাসিক ‘স্ট্যাটাস কু’ লঙ্ঘন করে আসছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি