আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে নির্ধারিত বেইজিং সফর স্থগিত করেছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা বৈঠকটি পুনর্নির্ধারণ করছি। চীনের সঙ্গে কাজ করছি, তারা এতে সম্মত রয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত তার বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা ছিল। এখন সফরটি প্রায় পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই স্থগিতাদেশের ফলে বৈশ্বিক কূটনীতি ও বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, স্ট্রেইট অব হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা কমাতে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, সেটিও আপাতত স্থগিত থাকছে। তাইওয়ান ইস্যু, শুল্ক, চিপস, অবৈধ মাদক, বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) এবং কৃষিপণ্য—এসব বিষয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের অগ্রগতি থমকে যেতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ইতোমধ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিহত মার্কিন সেনাদের দেশে ফেরানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই সফর রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান স্ট্রেইট অব হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। মিত্র দেশগুলোর কাছে সহায়তা চাইলেও তাতে উল্লেখযোগ্য সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে।
চীন, যা ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে—বিশ্বে সর্বোচ্চ—তারা এ বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বেইজিং সাধারণত আগেভাগে শীর্ষ বৈঠকের সূচি প্রকাশ করে না।
এদিকে, বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য—বিশেষ করে পোলট্রি, গরুর মাংস ও অন্যান্য ফসল—ক্রয়ের সম্ভাবনা এবং চীনের নিয়ন্ত্রিত রেয়ার আর্থ খনিজ সরবরাহ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের কূটনীতি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।