ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পাম্পে তেল কিনতে গিয়ে মারধর ও হামলার শিকার হয়েছে ভাই-বোন। পুলিশের এক কনস্টেবল ও ইউনিয়ন যুবদল নেতার ছেলে তাদের বেধড়ক মারপিট করে। মারপিট করার পর টেনে হিচড়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে কিছু হয়নি শর্তে মুচলেকায় স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে ওই ক্যাম্পের আইসি। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার লাঙ্গলবাধ তেল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী যুবক শৈলকুপা উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি তার বোন ও ভাগ্নেকে নিয়ে দুই মোটরসাইকেলে লাঙ্গলবাধ পাম্পে তেল কিনতে যান। রবিউলের গাড়িতে বোতলে জরুরি অবস্থার জন্য তেল রাখা ছিল। তেল নিয়ে মোটরসাইকেল স্টার্ট করার সময় লাঙ্গলবাধ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল (বিপি নং-কং ১২৪২) উজ্জ্বল মল্লিক সিভিল পোশাকে কোনো পরিচয় না দিয়ে রবিউলকে মারধর করে। মারধরের সময় রবিউলের বোন জেসমিন খাতুন ও ভাগ্নেকেও মারধর শুরু করে কনস্টেবল উজ্জ্বল মল্লিক ও ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লাল্টু মণ্ডলের ছেলে রিজওয়ান। রবিউল ও তার বোনকে মারপিট করে টেনে হিচড়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। করা হয় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। একপর্যায়ে কিছু ঘটেনি এমন মুচলেকায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ওই পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই আনিছুজ্জামান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাড়ি ফেরেন ভুক্তভোগী রবিউল, তার বোন ও ভাগ্নে।
রবিউল অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ি থেকে বেশ দূরে তেল পাম্পটি। পথে কোথাও তেল ফুরিয়ে গেলে জরুরির জন্য বোতলে ২০০ গ্রাম তেল রেখেছিলাম। সেই তেল দেখে কনস্টেবল উজ্জ্বল মল্লিক কোনো কথা ছাড়াই আমাকে মারধর শুরু করে। আমি বাধা দিলে দুজন মিলে বেধড়ক মারপিট করে। এমনকি আমার বোনকে মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকে। শুরুর দিকে তার পরিচয় জানতে পারিনি আমরা। পরে জানার পর আর কোনো প্রতিবাদ করতে পারিনি।
অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত কনস্টেবল উজ্জ্বল মল্লিক বলেন, গতকাল একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। রাতেই তো সেটা ঠিক হয়ে গেছে।
ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লাল্টু মণ্ডলের ছেলে রিজওয়ান বলেন, আমি তো মারধর করিনি। আমি উল্টো তাদের ঠেকিয়েছি।
এ ব্যাপারে লাঙ্গলবাধ ক্যাম্পের আইসি এসআই আনিসুজ্জামান বলেন, গতকাল একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছে। আমরাও তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। একটা ঘটনা ঘটে গেলে কিছু তো করার নেই।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন