ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলার ঘটনা সামনে এসেছে, যার জন্য ইসরায়েলকে দায়ি করা হচ্ছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে চালানো এই হামলার খবর জানিয়েছে ইসরায়েলের একাধিক গণমাধ্যম এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের বুশেহর প্রদেশে অবস্থিত গ্যাস অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
হামলার পরপরই স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায় বলে জানায় ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ। এক টেলিগ্রাম বার্তায় তারা জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ধারকর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি ইরান ও কাতারের মধ্যে বিস্তৃত, যেখানে উভয় দেশই গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করে। কাতারের অংশটি নর্থ ফিল্ড নামে পরিচিত।
এর আগেও এই গ্যাসক্ষেত্র হামলার শিকার হয়েছিল। গত বছরের জুনে ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা ১২ দিনের সংঘাতের সময়ও সাউথ পার্সে আঘাত হানা হয়। সেই হামলার পর উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল তেহরান।
সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি সতর্ক করেন, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা থেকে বিরত থাকা জরুরি এবং এ বিষয়ে কাতার আগেও সতর্ক করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব