আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা বাড়তেই বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামে তীব্র উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে, যেখানে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম এক লাফে প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়াকে সাম্প্রতিক সময়ের বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হলে এই দাম আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান ভান্দা ইনসাইটস-এর প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি আল জাজিরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ১৫০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তেলের দামের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ও তা কতদিন অচল থাকে তার ওপর।
অন্যদিকে কাতারের প্রধান গ্যাসক্ষেত্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় নতুন করে হামলার ঘটনায় ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডাচ টিটিএফ ন্যাচারাল গ্যাস মার্কেটে এক পর্যায়ে গ্যাসের দাম ৭৪ ইউরোতে উঠে যায়, যদিও পরে কিছুটা কমে আসে।
বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্রগুলোর একটি রাস লাফান-এ হামলার পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
একই সময়ে যুক্তরাজ্যের পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম ১৭১.৩৪ পেন্স (প্রায় ২.২৯ ডলার) পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে সেখানে গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উপায় খুঁজছে। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন-এর নেতারা জানিয়েছেন, তারা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চান না, তবে জ্বালানি সংকট তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে কার্বন ট্যাক্স কমানো নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভেদও দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সরাসরি ভোক্তা পর্যায়েও।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি