আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পবিত্র আল-আকসা মসজি ঈদের নামাজ আদায়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রধান ফটকগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় শত শত মুসল্লি মসজিদের ভেতরে ঢুকতে পারেননি। ফলে তারা বাধ্য হয়ে মসজিদের প্রবেশদ্বার ও আশপাশের সড়কেই নামাজ আদায় করেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন ইসরায়েলি সেনারা মসজিদের ভেতরের চত্বরে মুসল্লিদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের দামেস্ক গেট এলাকায় মুসল্লিরা জড়ো হন, কারণ সেখান থেকেই তারা মসজিদের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে নামাজ আদায় করতে পেরেছেন।
এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট। এক বিবৃতিতে তারা একে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ এবং ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে জেরুজালেমকে ইহুদিকরণ এবং মসজিদটিকে ফিলিস্তিনি ও ইসলামী পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত শুরুর পর গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ঈদের চিত্র আরও বেদনাদায়ক। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজায় ফিলিস্তিনিরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। যেসব মসজিদ ধ্বংস হয়ে গেছে, সেগুলোর সামনে কিংবা খোলা আকাশের নিচে জায়নামাজ বিছিয়ে তারা নামাজ আদায় করেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ১ হাজার ২৪০টি মসজিদের মধ্যে এক হাজার ১০০টির বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে।
গণহত্যা, বাস্তুচ্যুতি ও চরম মানবিক সংকটের মধ্যেও গাজার মানুষ তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি