আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার ইসরায়েল একযোগে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে আরও কয়েক হাজার মেরিন সেনা মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, কারণ তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সামরিক সহায়তায় অনীহা দেখিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এর বিস্তৃতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর আগে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের সাতটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
একই দিনে ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
সংঘাতের জেরে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে এই প্রণালিতে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মিত্র দেশগুলো প্রণালিটি সচল করতে সহযোগিতা করছে না। যদিও জার্মানি ও ফ্রান্স জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ না হলে তারা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপে যাবে না।
জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োদো জানায়, ইরান জাপান-সম্পর্কিত জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিতে পারে। জাপানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এই পথেই আমদানি করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ২,৫০০ মেরিন সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ ইউএসএস বক্সারসহ অঞ্চলটিতে পাঠাচ্ছে। তবে এসব বাহিনীর নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
মার্কিন জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্প বড় আকারের স্থলযুদ্ধে জড়াতে পারেন, যদিও মাত্র ৭ শতাংশ এ ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বার্তায় বলেছেন, ইরানিরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং শত্রুকে ‘বিভ্রান্তিকর আঘাত’ হেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে সরবরাহ বাড়াতে তারা সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ট্যাংকারে আটকে থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল বিক্রির অনুমতি দেবে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, কারণ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে এবং এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি