আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েল-এর আক্রমণ চার সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এ পর্যন্ত ইরান-এ কমপক্ষে ১,৪৪৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০৪ জন শিশু। ইরানের পক্ষ থেকে ইস্রায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমা দেশ ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক শিপিং ও এনার্জি অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ সময় লাখ লাখ ইরানি ঈদুল ফিতর ও নওরোজ পালন করছেন যুদ্ধের ছায়ায়।
ইরান: যুদ্ধের কারণে ইরানে ১,৪৪৪ জন নিহত, শিশু নিহত ২০৪জন। তেহরান ও আশেপাশের এলাকায় এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য: ইরান ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া-তে মার্কিন-ব্রিটিশ মিলিটারি ঘাঁটিতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে।
৭০তম হামলা: ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ইস্রায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ৭০তম ধাপ চালিয়েছে। এ সময়ে উপসাগরীয় রাষ্ট্রের এনার্জি স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
উৎসবের দিন যুদ্ধ: ঈদুল ফিতর ও নওরোজ একযোগে উদযাপিত হলেও লাখ লাখ ইরানি যুদ্ধের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। মাশহাদে ইমাম রেজা মসজিদ-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে বড় জনসমাবেশ হয়েছে, অনেকের অংশগ্রহণে পশ্চিমা শক্তির বিরোধী প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যুক্ত আরব আমিরাত: ইরানি সেনাবাহিনী হুমকি দিয়েছে, উএ ইলাকা থেকে আক্রমণ হলে রাশ আল-খাইমা শহরে “ধ্বংসাত্মক আঘাত” দেওয়া হবে।
বাহরাইন: ইরানি দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে; এখন পর্যন্ত মোট ১৪৩ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৪২ ড্রোন ধ্বংস।
সৌদি আরব: পূর্বাঞ্চলে ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে; মাত্র তিন ঘণ্টায় ৩৮টি ড্রোন ধ্বংস।
কুয়েত: মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে দুই ঢেউ ড্রোন আক্রমণ, আগুন লাগে।
কাতার: দক্ষিণ সিরিয়ার সামরিক স্থাপনায় ইস্রায়েল-এর হামলার নিন্দা।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ
ট্রাম্পের ইঙ্গিত: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ ধীরে ধীরে কমানো (“wind down”) হতে পারে, কিন্তু ইরানের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি নেই।
খার্গ দ্বীপ: যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্যভাবে অবরোধ বা দখল বিবেচনা করছে।
মেরিন মোতায়েন: ২,২০০–২,৫০০ জন অতিরিক্ত সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে।
ভূ-সৈন্য সম্ভাবনা: সাম্প্রতিক মিলিটারি পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-সৈন্য অভিযান।
ইস্রায়েল
ক্ষয়ক্ষতি: ইরান ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে; এয়ার ডিফেন্স কার্যকর হলেও কেন্দ্রীয় ও উত্তর ইস্রায়েল, পশ্চিম ডেড সি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
প্যালেস্টিনিয়ান নাগরিকদের সুরক্ষা: আশ্রয় সুবিধায় বৈষম্য; পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই।
দখলকৃত ফিলিস্তিনে আক্রমণ
আল-আকসা মসজিদ: ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ৩৫০ মিটার দূরে পড়ে, মসজিদে ব্যাপক ক্ষতি।
ইরাক, লেবানন ও সিরিয়ায় পরিস্থিতি
নিহত: লেবাননে ১,০০১ জন নিহত, শিশু ১১৮।
ইরাক: ব্যাগদাদের বিমানবন্দর নিকট মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট হামলা।
সিরিয়া: দক্ষিণ সিরিয়ায় ইস্রায়েলি আক্রমণ; কাতার, জর্ডান ও মিশর নিন্দা জানায়।
তেলের বাজার ও অর্থনীতি
দাম: ব্রেন্ট ক্রুড ১১২.১৯ ডলার প্রতি ব্যারেল।
শিপিং: পানামা নালা পূর্ণ ধারণক্ষমতায়, LNG ট্যাঙ্কার বহন বৃদ্ধি।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ: ইতোমধ্যে লোড করা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে সরবরাহ বৃদ্ধি।
ঝুঁকি: সমুদ্রপথ ও হরমুজ প্রণালী “critical”; মার্চে ২১টি বাণিজ্যিক হামলার ঘটনা।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি