রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি এখন পর্যটকদের ভিড়ে মুখর। লেক ও পাহাড়ঘেরা এই শহরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের আগমনে জমে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এতে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় পর্যটন খাত।
ঈদের পরের দিন থেকেই পর্যটকের আগমন বাড়তে শুরু করে, যা সোমবার আরও বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে পুরো এলাকায়। পাহাড়বেষ্টিত কাপ্তাই হ্রদ-এর শান্ত জলরাশি এবং সবুজ প্রকৃতি বরাবরের মতোই পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
রাঙ্গামাটির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতু এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানো, ছবি তোলা এবং নৌভ্রমণে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্শনার্থীরা। কাপ্তাই হ্রদে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোট ভ্রমণও বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. সোহেল জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় চার হাজার পর্যটক টিকিট কেটে প্রবেশ করেছেন।
রাঙ্গামাটি পর্যটন নৌ-যান চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ বি এম সালাহ উদ্দিন বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে এখন তারা স্বস্তিতে রয়েছেন। বোট ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আয়ও বেড়েছে।
শহরের আরেক জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র পলওয়েল পার্ক-এও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। কায়াকিং, লেকপাড়ে অবসর যাপনসহ বিভিন্ন বিনোদন সুবিধা পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।
এছাড়া ডিসি বাংলো পার্ক, শিশু পার্ক, লেকভিউ গার্ডেন, আরণ্যক ওয়াটার পার্ক, আসামবস্তি ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থানে পর্যটক ও স্থানীয়দের উপস্থিতি বেড়েছে।
শুধু শহরেই নয়, জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি-তেও পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পাহাড় ও মেঘের অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই এলাকায় রিসোর্ট ও কটেজগুলো প্রায় শতভাগ বুকিং রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। নিয়মিত টহল ও নজরদারির ফলে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারছেন।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে রাঙ্গামাটি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর এক প্রাণবন্ত জনপদে পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি