আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা নোগা এনার্জির প্রধান নির্বাহী শৌল গোল্ডস্টেইন সতর্ক করে বলেছেন, টানা ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে ইসরায়েলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে।
সোমবার তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানায়। গোল্ডস্টেইনের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো থেকে শুরু করে জনজীবনের প্রতিটি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এটি ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এদিকে ইরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ স্থাপনায় সামান্যতম হামলা চালানো হলে পাল্টা জবাবে পুরো অঞ্চলের তেল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ইরানি কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে আঘাত হানলে ইসরায়েলের আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আলোর ঝলকানি ছাড়া আর কোনো আলো থাকবে না।
তেহরান আরও জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে দ্রুত ও ব্যাপক হামলা চালাতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া।
ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে ইরান নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করার পর এখন তারা আরও জটিল ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে নতুন ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বর্তমান কৌশল শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতি নয়, বরং ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার এই হুমকি মূলত মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি অংশ, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের এই তীব্রতা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।সূত্র: তাসনিম নিউজ
রিপোর্টার্স২৪/এসসি