নিজস্ব প্রতিবেদক: অখন্ড ভারতের ঐতিহাসিক বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্যসেন ও বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় বিপ্লব পরিষদের এক নেতা। তার এই মন্তব্যের পরপরই উপস্থিত অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জানা গেছে এই ব্যক্তির নাম জিহাদী ইহসান, তিনি এই সংগঠনটির সহকারী সদস্য সচিব। ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে। তবে সোমবার (২৩ মার্চ) ‘পাকিস্তান দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রথম পুরানা পল্টন কার্যালয়ে সংগঠনটি প্রথম আলোচনা সভার আয়োজন করে।
জিহাদী ইহসান বলেন, আমরা শুধু ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সালের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করি, কারণ এখানে ভারতের সহযোগীতা রয়েছে । কিন্তু ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত যতো আন্দোলন হয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করি না। তিনি শহীদ তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ ও দুদু মিঞার সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন, ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে সূর্যসেন ও প্রীতিলতার কর্মকাণ্ডকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা যেতে পারে।
সভায় দলটির আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, উপমহাদেশে মুসলিম রাজনীতি ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় এ অঞ্চলের নেতাদের বড় অবদান ছিল। কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আলাদা হয়ে যাওয়ার পর সেসব নেতাদের অবদান আড়ালে পড়ে যায়। ১৯৭১ সালের পর এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যেন কেবল একাত্তরের নেতারাই জাতিকে মুক্তি দিয়েছেন তার আগের পূর্বপুরুষদের কোনো অবদান ছিল না।
তার এই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রামী, যাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলা ইতিহাস বিকৃতির শামিল বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালিব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম এবং মাওলানা জালালউদ্দীন রুমী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম ফেরদৌস।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন