ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটির সবগুলোই উড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারজি গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে এই হুমকির কথা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকানদের স্থাপিত এই ১৭টি ঘাঁটি ইরানের ‘শত্রু’ সামরিক বাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সেনা ও ঘাঁটি রক্ষায় পুরোদমে ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে জেনারেল শেখারজি জানান, ওই ঘটনার পর থেকে ইরান তাদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান পাল্টে আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করেছে। তবে তিনি এটিও নিশ্চিত করেন যে, গত ৪৯ বছরের ইতিহাসে ইরান নিজে থেকে কোনো দেশের ওপর আগ্রাসন চালায়নি এবং ভবিষ্যতেও চালাবে না। তাদের নতুন আক্রমণাত্মক নীতির অর্থ হলো, কোনো দেশ যদি ইরানের ওপর আগে হামলা চালায়, তবে আক্রমণকারী সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তেহরান পাল্টা আঘাত করতে থাকবে এবং কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালির বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীর এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই জলপথের পরিস্থিতি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। সংঘাত শেষ হলেও প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরান কিছু নতুন শর্ত জুড়ে দেবে, যা অন্যান্য দেশগুলোকে অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে পালন করতে হবে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিরাপত্তার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ওয়াশিংটন তাদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করেছে এবং ওই দেশগুলোর অর্থ ব্যবহার করেই সেখানে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে।
যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরান নিজেদের সামরিক ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত আরও উন্নত ও শক্তিশালী করছে বলেও জানান শেখারজি। পরিশেষে, তিনি ওই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সূত্র: মেহের নিউজ
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব