আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুদানের দক্ষিণ কোরদোফান প্রদেশে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। একটি চিকিৎসক সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে।
‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ জানায়, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ও তাদের মিত্র সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট–নর্থ (এসপিএলএম-এন) ডিলিং শহরের আবাসিক এলাকায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী গোলাবর্ষণ চালায়। এতে আরও অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজন শিশু রয়েছে।
সুদানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা এই হামলা প্রতিহত করেছে। এর আগে চলতি বছর শহরটিতে আরএসএফের অবরোধ ভেঙে সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে গোলাবর্ষণ ও খাদ্য সংকট ছিল।
চিকিৎসক সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে দারফুরের এল-ফাশের শহরের মতো ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। গত অক্টোবরে ওই এলাকায় আরএসএফের হামলায় জাতিসংঘ-নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা ‘গণহত্যার লক্ষণ’ দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আরএসএফের ব্যাপক সহিংসতা ও নৃশংসতায় এল-ফাশেরে মাত্র তিন দিনে ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘাত দ্রুতই বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে রূপ নেয়। বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে সংঘাতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
সংঘাতের উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তদন্ত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দারফুর ও কোরদোফান অঞ্চলে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন হামলাসহ প্রাণঘাতী আক্রমণের ঘটনা ঘটছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানায়, চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ড্রোন হামলায় ৫০০-র বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: আল জাজিরা