জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে স্থল আক্রমণ চালাতে পারে- এমন খবরে সোমবার (৩০ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।
সর্বশেষ তথ্যে, ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুড-এর দাম ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্টে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
এদিকে তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সরাসরি ভোক্তাদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম বেড়ে ৩ দশমিক ৯৮ ডলারে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে যখন হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দেয়। এতে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণ প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপ-এর সিইও গ্রেগ নিউম্যান বলেন, বৈশ্বিক তেল সরবরাহ একটি নির্দিষ্ট চক্রে পরিচালিত হয় এবং ইউরোপে এর প্রভাব পুরোপুরি বোঝা যেতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাজার ধীরে ধীরে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন শুরু করেছে এবং তেলের দাম অদূর ভবিষ্যতে ১২০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। তার মতে, এমন সরবরাহ বিঘ্ন অতীতে খুব কমই দেখা গেছে এবং এর প্রকৃত প্রভাব আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সূত্র: বিবিসি
রিপোর্টার্স২৪/আরকে