আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মায়ানমারে সামরিক বাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল ইয়ে উইন ওও। সোমবার তাকে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা তাকে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রয়টার্স জানায়, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের সময় ভোরবেলায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী। সে সময় নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চিকে গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেন ইয়েই উইন উ।
বিশ্লেষকদের মতে, তার এই উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সামরিক জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইংর প্রতি তার আনুগত্য। ধারণা করা হচ্ছে, মিন অং হ্লাইং শিগগিরই দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে পারেন।
কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব বজায় রাখতে বিশ্বস্ত ঘনিষ্ঠজনকেই সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে বসিয়েছেন মিন অং হ্লাইং।
সামরিক বাহিনী থেকে পলায়নকারী এক মেজর নাউং ইয়ো বলেন, তিনি (মিন অং হ্লাইং) এমন একজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন, যিনি তার নির্দেশ মেনে চলবেন এবং তার প্রভাব ধরে রাখতে সহায়তা করবেন।
ইয়েই উইন উ-র সামরিক ক্যারিয়ার শুরু হয় অফিসার ট্রেনিং স্কুল থেকে। পরে তিনি পদাতিক ইউনিটে কাজ করেন এবং ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উন্নীত হন। ইয়াঙ্গুনে দায়িত্ব পালনের সময়ই মিন অং হ্লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি, যা তার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলে।
২০২০ সালে তিনি সামরিক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। এ সময় গোয়েন্দা ও জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রমের তদারকি করেন এবং শহরাঞ্চলে জান্তা-বিরোধী গেরিলা তৎপরতা দমনে ভূমিকা রাখেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, অন্তত আগামী কয়েক বছর নতুন সেনাপ্রধান ইয়েই উইন উ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া মিন অং হ্লাইংয়ের নীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে কাজ করবেন। ফলে সামরিক কৌশল বা নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি