চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। দেশের রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। এ শহরে দেশের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আহরণ করা হলেও দেশ স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পার হলেও এখনও হামের মতো গুরুত্বপূর্ণ রোগ শনাক্তের জন্য কোনো স্থানীয় ল্যাব নেই এ শহরে। হাম শনাক্ত করতে হলে নমুনা পাঠাতে হয় ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল)।
গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি সামনে আসে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম থেকে ৯১টি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। হাম, রুবেলা এবং জন্মগত রুবেলা সিন্ড্রোম শনাক্তের ক্ষেত্রে এনপিএমএল দেশেই একমাত্র রেফারেন্স ল্যাব। ঢাকার বাইরে কোনো ল্যাব না থাকায় রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে, যা রোগ শনাক্ত এবং চিকিৎসায় জটিলতা তৈরি করছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হাম রোগীর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকায় অবস্থিত এনপিএমএল ছাড়া বাংলাদেশের কোথাও দ্বিতীয় কোনো ল্যাব নেই। তাই সারা দেশের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকাতেই পাঠানো হয়। চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা হিসাবে এখানেও একটা ল্যাব স্থাপন জরুরি। সরকারের এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
চট্টগ্রাম ডেভলপমেন্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে দেশের প্রতিটি বড় শহরে সমানভাবে উন্নত চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। হামের মতো একটি রোগ শনাক্তে চট্টগ্রামে ল্যাব নেই, এটি ভাবতেও কষ্ট হয়। তাই চট্টগ্রামেও উন্নতমানের ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন, আধুনিক চিকিৎসা উপকরণ সংযোজন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রস্তুত করা এখন সময়ের দাবি।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রামে হামের নমুনা পরীক্ষার কোনো ল্যাব নেই। হাসপাতালগুলোতে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের নমুনা ঢাকার এনপিএমএলে পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সমস্যা তৈরি হয়নি, তবে স্থানীয় ল্যাব থাকা জরুরি।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন