রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, যা দেশটির পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নর্দার্ন মলুক্কা সাগরের টারনেট উপকূলের কাছে সংঘটিত এই কম্পনের পর আশপাশের এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আলজাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রাথমিকভাবে অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে একজন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের তীব্রতায় বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন।
টারনেটের বাসিন্দা বুদি নুরগিয়ান্তো জানান, হঠাৎ করেই ঘরের দেয়াল কাঁপতে শুরু করে এবং কম্পনটি এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অনুভূত হয়। আতঙ্কে অনেকেই ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন কেউ কেউ অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই বাইরে ছুটে যান।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রথমে কম্পন হালকা থাকলেও দ্রুত তা তীব্র আকার ধারণ করে। এতে মানুষজন জীবন বাঁচাতে ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। শুরুতে এর মাত্রা ৭.৮ ধরা হলেও পরে সংশোধন করে ৭.৪ নির্ধারণ করা হয়।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে, নর্থ মালুকু প্রদেশের কাছে। স্থানীয় প্রশাসন টারনেট ও তিদোরসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
সুনামি সতর্কতা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে বিপজ্জনক সুনামি আঘাত হানতে পারে। কিছু এলাকায় ঢেউয়ের উচ্চতা ০.৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। জাপানে সম্ভাব্য ঢেউয়ের উচ্চতা শূন্য দশমিক ২ মিটার, যা বড় ক্ষতির কারণ হবে না।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আগুনের বৃত্ত’ অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে এখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম